Humans of Thakurgaon > Stories > Dr. Abu Md. Khairul Kabir


"আমার জন্ম ১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও এর কালীবাড়ীতে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। বড়মাঠ ছিলো আমার জন্য উঠান। আর মাধ্যমিকটা জিলা স্কুলেই পড়েছি। এখান থেকে ১৯৭৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করি। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করবার পর নিজের ইচ্ছে আর স্বপ্নকে সাথে নিয়ে বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হই। ক্লাস শুরুর পনের দিনের মাথায় ঢাকা মেডিকেলে কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল দেখে আমার পিতা মরহুম আবদুর রউফ জানান তার খুব ইচ্ছা এক ছেলে ডাক্তার হোক। তাই বুয়েটে পনেরটা দিন ক্লাস করেও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হই শেষমেশ। এটাই আমার ডাক্তার হবার গল্প।

পাশ করবার পরে বাবা বলেছিলেন বড় ডাক্তাররা বড় শহরে থাকেন, তুমি পারলে এলাকার মানুষদের দেখাশোনা কোরো, এলাকার মানুষদের মাঝেই আমাকে পাবে। এটাই আজ আমার পথ চলার পাথেয়।

আমরাই শেষ ব্যাচ ছিলাম যারা বিসিএস ছাড়া ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং-এর মাধ্যমে চাকরিতে যোগদান করেছিলাম। প্রথম পোস্টিং ছিলো পঞ্চগড়ে; তারপরে ঠাকুরগাঁও এবং পরে মহাখালী বক্ষব্যাধিতে ছিলাম বেশ কিছুদিন। বাবা মারা যাবার পরে আমি ঠাকুরগাঁও-এ আসি এবং তখন থেকেই এখানেই আছি।

পূর্বের জেলা প্রশাসক আবদুল আউয়াল স্যার এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে এখানে একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এর দ্বারা সদর হাসপাতালে প্যাথলোজি সেবা ২৪ ঘন্টায় উন্নীত করা সম্ভপর হয়েছে। ২২ জনকে এ ফান্ড থেকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়। এই অঞ্চলে একটি নৃগোষ্ঠী আছে, যারা হাসপাতালে আসতে চায়না। তাদের জন্য দুটি শয্যা ২৪ ঘন্টা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তাদেরই একজনকে হেল্প ডেস্ক-এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে যাতে তারা সহজে হাসপাতালে আসে। মা ও শিশু মৃত্যু কমাতে ডিজিটাল একক নাম্বার এর মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-এ একটি প্রকল্প চলমান। এটি সফল হলে সারা বাংলাদেশে একটি অনন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

ঠাকুরগাঁও এ একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হোক, তা আমি নিজেও চাই। ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ঠাকুরগাঁও এ এসছিলেন, আমি নিজে তাঁকে অনুরোধ করেছি এর জন্য। তিনি বলেছেন শিক্ষক স্বল্পতার কথা, তারপরেও আমি বলেছি অন্যান্য মেডিকেলগুলো যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছে আমরাও সেভাবে চেষ্টা করবো, উত্তরের এই জনপদে এর দরকার আছে।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি এক মেয়ে এবং এক ছেলের জনক। ছেলেটি কিছুদিন হলো ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে আমাদের পারিবারিক ব্যবসাতে যোগ দিয়েছে। মেয়েটি ডাক্তারি পড়ছে। এই শেষ প্রান্তে এসে আর চাইবার কিছু নেই আমার। আল্লাহর কাছে এইটুকুই চাই যাতে আমাকে আগামী দিনগুলোতে ঠাকুরগাঁও-এর মানুষের সেবা করে যাবার সু্যোগ দেন।"


"I was born on January 17, 1961 in Kalibari of Thakurgaon. I am the second of my five brothers. Boromath was like a house courtyard to me. I studied my secondary education at Zilla School. From here I passed the matriculation in 1976. After passing Intermediate from Dhaka Residential Model College in 1978, with all my dreams, I got admitted into BUET to study Civil Engineering. On the fifteenth day of being in BUET, result of the admission test of Dhaka Medical College was published. My father late Abdur Rouf said that he would like to be a father of a doctor. So, I left BUET and went in Dhaka Medical College. That is the story of my being a doctor.

After I had passed from Medical College, my father said that renowned doctors live in big cities. If you can serve the people in our area, you can find me amongst them. That is the way how the path of my life is going on since then.

We were the last batch who joined the service through an in-service training without the BCS examination. My first posting was in Panchagarh; Then Thakurgaon and later on National Institute of Diseases of the Chest and Hospital, Mohakhali. After the death of my father, I came back to Thakurgaon and since then I live here.

A fund has been formed with the help of former Deputy Commissioner Abdul Awal Sir and the prominent people of Thakurgaon. It has been possible to upgrade the pathology service in Sadar Hospital to 24 hours since then. 22 people are regularly paid their wages from this fund. There is an ethnic group in this region who do not want to come to the hospital (due to inferiority complex). For them, two beds are kept reserved for 24 hours. One person from that specific ethnic group has been assigned on the help desk so that they can easily come to the hospital. To reduce the death of mother and child, a project is going on through digital unit numbering system. If the project turns into success, then I believe, a unique health system will be introduced in Bangladesh.

I cherish that, a Medical College in Thakurgaon should be established soon. When the Honorable Prime Minister came to visit Thakurgaon in this year (2018), I have requested her about it. She told about the lack of teachers. Yet I said that we will try the way other medical colleges are going forward. The north needs one.

Personally I'm a father of a daughter and a son. A few days back my son has completed engineering and joined our family business. The daughter is studying in medical. I don't have anything to wish personally at this moment. I want to serve the people of Thakurgaon as long as possible, this is what I pray to the almighty."


45 December 04, 2018

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Prev
Go back to Stories