Humans of Thakurgaon > Stories > Dr. Md. Shahid Uz Zaman


"আমার জন্ম হয়েছিল রাণীশংকৈল জমিদারবাড়িতে। জমিদার বাড়ির চারপাশের এলাকাটার নাম ছিল মাহুতপাড়া। আশ্বিন-কার্তিক মাসে সেখানকার মানুষজনের কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগতো। ঠাকুরগাঁও-এর কলেজপাড়ার বাসার পাশেও কষ্টে জীবন যাপন করা মানুষ দেখেছি অনেক। এ বিষয়গুলো থেকেই প্রাথমিক স্তরে পড়বার সময় সিদ্ধান্ত নেই সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়ব। যদি পারি মানুষের জন্য কাজ করব।

জিলা স্কুলে নবম শ্রেণিতে মানবিক নিয়ে পড়তে চাওয়ায় শ্রেণি শিক্ষক শ্রদ্ধেয় মোসলেম স্যার বাবাকে ডেকে পাঠান সম্মতির জন্য। আমার বাবা একজন অন্য রকম মানুষ। আমাদের ওপর কখনও কোন কিছু চাপিয়ে দিতেন না। বরাবরের মত সেবারও তিনি সম্মতি জানালেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় আব্দুল আজিজ স্যারকে।

এসএসসিতে রাজশাহী বোর্ড থেকে মানবিক-এ ১২তম হলাম। বড় ভাই কলেজ ভর্তি পরীক্ষা দিবার জন্য ঢাকা নিয়ে এলেন। ফর্ম পূরণ করার পর জানতে পারলাম আমাকে পরীক্ষা দিতে হবে না। এসএসসিতে ৬৫০ নম্বরের অধিক নম্বর পেলেই ঢাকা কলেজে সরাসরি ভর্তি এবং হোস্টেলে সিট দেওয়া হবে। আমার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৮৪।

কলেজ থেকে পাশ করবার পর ঢাকার বাইরে ভর্তি হব চিন্তাও করিনি। আমার বড় দুই ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন বলে তাঁরা আমাকে পরীক্ষাটা দিতে বললেন। ভর্তি পরীক্ষা দিলাম এবং খ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করলাম। সেখানে ডিন অফিসে সাক্ষাৎকারে বিষয় মনোনয়নে আমি সমাজকর্ম বেছে নিয়েছিলাম দেখে অধ্যাপকেরা ভীষণ বিস্মিত হয়েছিলেন।

এরপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। খ ইউনিটে প্রথম ৫০ জনের মধ্যে ৩০ জন ছিল আমার কলেজের সহপাঠী। আমি ১৯তম হয়েছিলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন শ্রদ্ধেয় ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্যার অর্থনীতি অথবা এনথ্রোপলজিতে পড়তে বললেন। আমি জানালাম, সমাজকল্যাণই পড়ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ৫১৯ নাম্বার রুমে উঠলাম। পরবর্তীতে প্রভোস্ট আবু জাফর স্যারকে বলে ৪২০ নম্বর রুমটা নিয়েছিলাম যেন পরিচিত সবাই মনে রাখতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিও করেছি। বেশিরভাগ সময়ে রাত ১২টার পরেই পড়ালেখা করেছি।

অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হলাম। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারিনি। এটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা আফসোস। যেহেতু ছাত্রাবস্থাতেই ১৯৮৮ সালে ইএসডিও নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাড় করিয়েছিলাম, সেখানেই যুক্ত হয়ে যাই। অবশ্য পরিকল্পনাও ছিল তাই। এ কারণে জাপান সরকারের মনোবসু স্কলারশিপ পেয়েও যাইনি সেখানে।

আসলে সেসময় ঠাকুরগাঁও-এর অবস্থা এতো উন্নত ছিল না। চাকুরিক্ষেত্র, ব্যবসাক্ষেত্র অথবা কৃষিক্ষেত্রও এতো সমৃদ্ধ ছিল না। তখন থেকেই ভাবতাম দেশ পাল্টানো তো অনেক বড় পরিসরের ব্যপার। এ অঞ্চলটার পরিবর্তন তো কমপক্ষে সম্ভব। এখন আমাদের এই কার্যক্রম দেশের সীমা ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও পৌঁছেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে আমার বাবা আমার দিক নিদর্শক। তিনি এমন একজন অভিভাবক যিনি সপ্তম শ্রেণিতে আমাদের হাতে তুলে দিতেন ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’-এর মত ক্ল্যাসিক উপন্যাস। বই পড়ার অভ্যাসটা খুব ছোট থেকেই। আমি বলতে পারি, ঠাকুরগাঁও গণ-গ্রন্থাগারের সে সময়ের প্রায় সকল বই আমি পড়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে প্রায় ৩৬ হাজার বইয়ের অধিকাংশ বই আমি পড়েছি। এখনও সেখান থেকে অনেকে ফোন করে আমাকে জিজ্ঞেস করে অমুক বইটি কোন সারিতে আছে। বই একটি আলোকিত পথ। আমার বাবার দেখানো এ পথ আমাদের অনেক দূরে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

ঠাকুরগাঁও এ ছাত্রজীবনে টাঙ্গন সাহিত্য ও ক্রীড়া সংসদ গড়েছিলাম বন্ধুদের সাথে। বক্তৃতা, বিতর্ক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পরিবারের মোটামুটি সবাই জড়িত।

এখন মাঝে মাঝে মনে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়েই বরং এতো বড় কাজ করবার সুযোগ হয়েছে। বড় পরিসরে কাজ করবার সুযোগ হয়েছে। ঠাকুরগাঁও এর অনেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করছেন। ঠাকুরগাঁওকে সমৃদ্ধ করছেন। তাদের কাছে একটাই অনুরোধ, জীবনে যাবতীয় অর্জন করবার পর দয়া করে ঠাকুরগাঁওকে মনে রাখবেন।"


"I was born in Ranisankail Jamidarbari. The arena surrounding Jamidarbari was known as Mahutpara. During the month of Ashwin and Karthik people of this area suffered too much, I felt sorry for them. At Thakurgaon Kalejaparara I also saw a lot of people living in distress. While I was at primary level I have decided to study Humanities seeing the people’s agony.

At class nine in the Zilla School when I asked respected Moslem sir that I would study humanities, he called my father. My father was a different person. He did not insist us on doing anything. He gave the consent to the head master Abdul Aziz sir.

I stood 12th in Humanities from Rajshahi Education Board in SSC exam. My elder Brother brought me Dhaka to attend college admission tests. After filling out the form of Dhaka College I was told not to submit it. Later on i came to know that if anyone gets more than 650, he will be directly admitted to the college with an allotment in the hostel. I got 684 marks.

After graduating from college, I had no plan to go outside the capital. My two elder brothers had gone to University of Rajshashi, they told me to attend the admission test at least. I attended the test got the first place in the merit list. During interview with the dean's office, the teachers were very surprised at my choice, I chose Social Work.

Then I attended the admission test of University of Dhaka. 30 out first 50 in the merit list were my college classmates. I stood 19th. Dean of the Faculty of Social Sciences of the University of Dhaka respected Anoarullah Chowdhury sir told me to take Economics or Anthropology. I told them, I would study Social Welfare.

I was allotted in room number 519 at University Hall named Bangabandhu hall. After a few days I took permission from Provost Abu Zafor sir to be allotted in room no 420 as it is easy to remember. In addition to my study I was involved in student politics. Most of the time I read after 12 AM.

I passed honors and masters with first class degree and stood first. Due to the political change I could not become a faculty of the University. I still regret for this. While I was studying, in 1988 I established an organization named ESDO. I later on joined there. That was the actual plan. For this reason, I did not go to Japan though I had the Monbukagakusho Scholarship.

In fact, at that time Thakurgaon was underdeveloped. The service sector, businesses sector or Agriculture sector was not affluent enough too. Since then, I realized to change a country is a very big deal. At least this small area can be changed, we hoped. Now our program has reached beyond the country's border.

In my life, my father was the Idol. He was that kind of a parent who handed over the “Mother” of Maxim Gorky during our seventh grade. I used to read books since my childhood. I can tell you, I've read almost all the books from Thakurgaon public library of that time. I have read more than thirty six thousand books of Social welfare Institute’s Library of University of Dhaka. Still now they call me to ask about some books queue. Book shows the enlighten path. The way that my father had shown helped us to go far ahead.

With the help of my friends, I have established Tangon Sports and Literature Club. Almost every one of our family are connected with different co-curricular activities.

Now sometimes it seems to me that I have had all this opportunities to work only by not becoming a University faculty. I got the opportunity to work on a greater scope. Many of us are now doing great in different sectors and enriching Thakurgaon. I have only one earnest request to them, please remember Thakurgaon no matter of how much you achieve in your life."


406 July 21, 2016

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Prev Next
Go back to Stories