Humans of Thakurgaon > Stories > Dr. Nasima Akter Jahan


"১৯৯৫ সালে সিরাজগঞ্জ থেকে আমার বদলি হয় নিজ জেলা লালমনিরহাটে। জন্মস্থানের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার সাথে তারুণ্যের উদ্দীপনা মিলিয়ে প্রসূতি মায়েদের সেবা দিয়ে যাচ্ছিলাম সেসময়টা জুড়ে। তবে সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমার পক্ষে রোগীদের পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ১৯৯৪ সাল থেকে রাজশাহী বিভাগে সিজারিয়ান সেকশনের প্রশিক্ষণ শুরু হলেও লালমনিরহাট অব্দি পৌঁছাবার আগেই সেটা বন্ধ হয়ে যায়। প্রশিক্ষণটি গ্রহণ করবার জন্য আমি চলে যাই বান্দরবান জেলায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এক বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৯৭ সালে আমি চলে আসি ঠাকুরগাঁও-এ। সে সময় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জনবল খুব একটা ছিল না। দশ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দুজন ডাক্তারসহ মোট কর্মী ছিলেন মাত্র আটজন। আমার আগের ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করে যান; আমি এসে কাজটা চালিয়ে নিয়ে যাই। দিনের পাশাপাশি রাতেও আমরা অপারেশনের ব্যবস্থা করি। তৎকালীন, পঞ্চগড় জেলাতেও সিজারিয়ান সেকশনের ব্যবস্থা ছিলো না। ফলে এই অঞ্চলের প্রায় সকল প্রান্তের মানুষকে আমরা সেবা দিয়ে এসেছি। এভাবে দেশব্যাপি আমাদের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি সুনাম অর্জন করে।

আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন, ‘ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ একাধিকবার জাতীয় পুরষ্কার অর্জন করেছে। ২০০৬ সালে সেরা দশটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে একটি ছিল এটি। এরপরে ২০০৯ সালে ‘দেশ সেরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে এ কেন্দ্রটি। এছাড়া আমার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি বা সুখস্মৃতির কথা বলতে গেলে আমি একটি ছোট্ট গল্প বলতে পারি। আটোয়ারির এক মহিলা ছিলেন, প্রসবকালীন জটিলতায় তিনি আট সন্তান হারান। এখানে সার্বিক সেবা দিয়ে আমরা তার নবম শিশুসন্তানটিকে সফলভাবে জন্মদানে সক্ষম হই। ব্যক্তিগতভাবে এসকল ঘটনাগুলোকেই কেন জানি বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়।

আমি বিশ্বাস করি, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে চিকিৎসা সেবাকে কার্যকর করতে হলে জনগণের মাঝে সচেতনতাটা বাড়ানো জরুরি। মায়েদের পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে হতে হবে। গর্ভকালীন সন্তান এবং নিজ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। জনসংখ্যার অনুপাতে আমাদের যথেষ্ট চিকিৎসক ও জনবল নেই বললেই চলে। তাই জনগণ সচেতন হলেই কেবল চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, এটা আমার ভীষণ মনে হয়।

এতোদিন যেভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে এসেছি সেভাবেই সেবা দিয়ে যেতে চাই। এর বাইরে দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আমাদের আশেপাশে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা, যাঁদের অবদান প্রকাশিত হয়নি এখনো, তাঁদের সংগ্রামের গল্পগুলো মানুষকে জানাতে চাই। এর মাঝে আমার দুটি কবিতার বইও প্রকাশিত হয়েছে।

আমার জন্ম লালমনিরহাটে হলেও আমি এখন ঠাকুরগাঁওয়েরই একজন। এখানেই চাকরি জীবনের প্রায় বিশটি বছর আমি কাটিয়েছি। বহুসংখ্যক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার যাবতীয় সফলতা-ব্যর্থতা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকে ঘিরে। আমি মন থেকে চাই এখানকার তরুণসমাজ অসাম্প্রদায়িক ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলবে এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে নেতৃত্ব দেবে।"


"I got transferred to my home district Lalmonirhat in the year 1995 after served a long time in Sirajganj. With passionate love for the people of my birthplace, I was serving mothers with my full heart. However, there was no cesarean operation system available there; so I was unable to provide patients with complete treatment. Since 1994, the training of the cesarean section had started in Rajshahi division. Unfortunately, it was stopped before the service could have reached Lalmonirhat. I went to Bandarban to take the training. In 1997, I came to Thakurgaon with a one-year training in from Chittagong Medical College. At that era there was not much manpower in the mother and child welfare centers. There were just two doctors with total staffs of only eight persons in every ten-bed mother and child welfare center. The previous doctor who was here in my position started the cesarean operation, then I came and did the job continue. Along with daytime, we also did arrange operations at night. At that time, there was no cesarean section in Panchagarh too. As a result, we had to serve the people of almost all corners of this region. In this way, our mother and child welfare center has earned a reputation in the country.

You will be pleased to know that, ‘Thakurgaon Mother and Child Welfare Center’ has earned national awards more than once. This center was one of the top ten Mother and Child Welfare Centers in 2006. Afterwards, this organization achieved the pride of being selected as the Best Mother and Child Welfare Center in 2009 across the country. Apart from talking about my personal reception or happiness, I would tell a little story. A woman from Atwari, lost her eight children due to complications during childbirth. With the overall services here, we were able to give birth to her ninth child successfully. Such individual incidents seem to be big achievements for my life.

To ensure the health of mother and child, it is necessary to increase the common awareness among mass people, I believe. Mothers should be aware of family planning. They need to be aware of prenatal child and their own health. We do not have enough doctors and manpower in contrast to the population ratio, we can see. So, if only mass people are aware, I strongly consider, it is possible to ensure the health of mother and child through medical care.

I want to serve the people through the way I have served them always. Outside of this, I am trying to write a little bit about our country and the liberation war. I want to tell the struggling story of the freedom fighters around us, whose contributions have not been published yet. Meanwhile, I am gratified enough to publish two poetry books.

Although I was born in Lalmonirhat, I am one of the inhabitants of Thakurgaon right now. Here I have spent about twenty long years of my career. I have received love and endorsement from many people. Every Success and failure of my life is surrounded with the people of Thakurgaon. I would like to invite the young generation to build a non-communal Thakurgaon and thus lead the country forward."


368 April 14, 2018

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Prev Next
Go back to Stories