Humans of Thakurgaon > Stories > Hamidur Sir: Part One


প্রথম পর্বঃ

 

"মানবিক বিভাগে মেট্রিক পাশ করি নেকমরদ আলিমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে। ঠাকুরগাঁও-এ এসে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হই, মানবিক বিভাগেই। হোস্টেলে উঠলাম। আমরা চারজন রুমমেট ছিলাম। আমি বাদে বাকি তিনজনই বিজ্ঞান বিভাগের। তারা যেন আমাকে একটু অবমূল্যায়ন করত আমি বিজ্ঞান বিভাগ নই বলে। তখন সেভাবে বুঝতামও না কোন বিভাগে পড়লে কী করতে পারবো। আবার, আমার বিজ্ঞানের মাধ্যমিক পর্যায়ের বিষয়গুলো নিয়ে তেমন কোনো ধারণা ছিলো না, উপরন্তু সে সময়ে বিজ্ঞান বিভাগে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হতো। সে সময়ে ইন্টারমিডিয়েটে মানবিক থেকে বিজ্ঞানে আসা যেত। তাই অনেকটা জেদের বশেই বিভাগ পরিবর্তন করে বিজ্ঞান বিভাগে চলে আসি। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগে পড়বার সুযোগ পাই। পারিবারিক কারণে সেখানে ভর্তি হওয়া হয়নি। ঠাকুরগাঁও থেকেই ডিগ্রি পাশ করি। স্নাতক শেষ করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না। ফলাফল বের হবার আগেই নেকমরদ আলীমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা আমাকে ডাকেন। এটা ১৯৭৮ সালের ঘটনা। সে সময়ে গণিত বিষয়ে শিক্ষক সংকট ছিল। তাই আমাকে সেখানে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমার চাকরিজীবন শুরু হয় মাত্র ২৭৫ টাকা বেতনে। ১৯৮৯ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হয়। কিছুদিন পরে আমার বদলি হয় পঞ্চগড় গার্লস স্কুলে। প্রায় পাঁচ বছর পর ১৯৯৭ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে আসি, জিলা স্কুলে। এখান থেকেই ২০১০ সালে অবসর নেই।

 

আমি ব্যক্তিগত জীবনে ঝামেলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি সব সময়। কারও কোনো কাজ খারাপ লাগলে মুখে বলতাম; কথা না শুনলে তা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। আশেপাশে কে কী বলছে তা নিয়েও আমার খুব একটা মাথা ব্যাথা ছিল না। জীবন নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। কখনোই উচ্চাভিলাষী ছিলাম না; তাই চাকরি-জীবন, অবসর-জীবন নিয়ে আমি খুশি।

 

ছাত্রদের সাফল্য তাদের নিজ মুখে শুনলে অনেক গর্ববোধ করি । আমার নিজের সন্তানদের সাফল্য থেকেও ছাত্রদের জীবনের ঔজ্জ্বল্য দেখে বেশি ভালো লাগে। তবে আমার সন্তানদন্দের জীবন নিয়েও আমি অখুশি নই। অনেকে তো পড়ালেখার সুযোগটাও সেভাবে পায় না। সে দিক থেকে আমি পিতা হিসেবে সন্তুষ্ট।

আমার বাবা-মা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব বেশি শিক্ষিত না হলেও স্বশিক্ষিত ছিলেন। জ্ঞান যে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেই অর্জিত হয় না তা আমি তাঁদের কাছেই দেখেছি। পারিবারিক জীবনে আমি তিন সন্তানের জনক; দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। আমার স্ত্রী ২০০৯ সালে মারা যান। আমার ছোট মেয়েটার বয়স তখন মাত্র সাড়ে তিন বছর। তোমরা অনেকেই হয়তো তাকে দেখেছো। সে কারো কাছেই যেতে চাইতো না, এজন্য স্কুলেও যেত আমার সাথে।

আমরা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেদের এবং আশেপাশের মানুষদের ভালো রাখতে সচেষ্ট হলে, বৃহত্তর পর্যায়ে পুরো দেশ ভালো থাকবে। যেভাবে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে শিক্ষকদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি তো এক-দুই দিনে আসেনি, বরং এসেছে দীর্ঘসময়ে এবং অনেকের দায়িত্বশীলতায়। এভাবেই সমাজ প্রকারন্তে দেশ ভালো থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

শিক্ষকদের কাজ তো শুধুমাত্র ছাত্রদের সহযোগিতা করা। বাকি কাজ তো ছাত্রদেরই সম্পন্ন করতে হয়। আমি যতটুকু পেরেছি ছাত্রদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। এখানে উল্লেখযোগ্য একটা বিষয় হল, স্কুলের ছাত্ররা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখে না। তাই এই সময়ে তাদের দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হয়। ছাত্ররা সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

 

আমি সারা জীবন রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি। এর পেছনে ছোট্ট একটা গল্প আছে। ঠাকুরগাঁওয়ে এসে হোস্টেলে উঠার দুই-এক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ে দুটি ছাত্র সংগঠন সক্রিয় ছিল ঠাকুরগাঁও-এ। ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়ন, যা ছিল ন্যাপ এর ছাত্র সংগঠন। এই দুই সংগঠনের মধ্যে ওই সময়ে কোনো কারণে গণ্ডগোল চলছিল। কোনো এক পক্ষের ছাত্ররা এসে আমাকে বলে যে, আমাকে মারামারি করতে যেতে হবে। বিনা কারণে কাউকে আঘাত করা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছিল। তখনও রাজনীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও সেদিন থেকেই রাজনীতির প্রতি আমার মনোভাব কিছুটা নেতিবাচক। তাছাড়া রাজনীতির ময়দানে ভালো-মন্দ সব ধরণের মানুষ থাকে; অথচ সেখানে মন্দের প্রভাবটাই বেশি। তাই নিজেকে এসব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছি।"


"I had passed matriculation in humanities from Nekmarad Alimuddin High School in 1968. Then I got admitted to Thakurgaon College in humanities. I got allotted on hostel in a room of four. All of them were from science background except me. They used to underestimate me, as I was not a student of science. Even then I did not understand the purpose and future potential of science or humanities. Again, I had no idea about the secondary level subjects of science. Moreover, at that time science was taught in English. At that time you could get admission in science even if you are from humanities. So out of insistence I changed the department and altered to science. After passing the intermediate examination, I got chance in Applied Physics at the University of Rajshahi. I did not go there for a family reason. I passed the degree exam from Thakurgaon College. Even after my graduation, there was no specific future plan. Prior to the result, the teachers from Nekmarad Aliimuddin High School called me. This is the event of 1978. At that time there was a teacher crisis in mathematics. So, I was appointed as a part-time teacher there. My career started at a salary of 275 Tk. only. In 1989, the school was governmentalized. After few years I was transferred to Panchagarh Girls' School. About five years later, I came to Thakurgaon Zilla School, in 1997. I took my retirement from here in 2010.

 

I have always tried to avoid troubles in my personal life. When someone has done a bad deed, I said it in the face; if they did not listen, I did not bother about it. I didn't have much of a headache as to who was saying what in the vicinity. I have no regrets about life. Never been so ambitious. So I am happy with my job, with my retirement as well.

 

I am very proud to hear the success of my students in their own words. I love seeing the brightness of my students' lives more than the success of my own children. However, I am also happy with my children. Many do not even get the opportunity to study. In that regard, I am pleased as a father to afford that. My parents were self-taught, though not very well-educated in institutional education. I have learnt that, knowledge is not only acquired in an institutional way from them. In family life I am the father of three children; two boys and a girl. I lost the mother of my children in 2009. Our little girl was only three and a half years old at the time. Many of you may have seen her. She didn't want to go to anyone, so I took her to school with me.

 

If we all strive to keep ourselves and the people around us well from our individual position, the whole country will be better on a larger level. In this way, Thakurgaon Government Boys' High School was recognized for its excellent efforts in the long-term efforts of the teachers. This recognition has not come in a day or two, but it took long to come, utilized the responsibility of many. In this way, I believe that the society will be good as well the country.

 

The task of the teachers is to help the students only. The rest of the job has to be done by the students. I have tried to assist the students as much as I could. One thing to note here is that, school going students do not have a clear idea of the goals and objectives. So during this period they need guidance. If they get the right direction and keep pace with the era, their future will be bright.

 

I have been away from politics all my life. There is a short story behind it. The incident took place within two days of my admission at the hostel of Thakurgaon College. At that time, two student organizations were active in Thakurgaon; Chhatra League and Students Union, which was the NAP's student body. There were riots between these two organizations at that time. Students from one side came and told me that I had to go to the fight. It seemed absurd to me to hurt someone without reason. Even though I have no clear idea about politics, my attitude towards politics has been somewhat negative since that day. Moreover, there are all kinds of good and bad people in the field of politics; but the effect of evil is greater there. So, I tried to keep myself away from it."


153 April 20, 2020

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Prev
Go back to Stories