Humans of Thakurgaon > Stories > Pial Bosh


"জন্মগত সূত্রে পারিবারিক ভাবেই গান-বাজনার সাথে যুক্ত ছিলাম। আমার প্রথম শিক্ষাগুরু ছিলেন আশীষ কুমার রায় বাবু, ওনার কাছ থেকেই আমার উচ্চাঙ্গ ও তবলায় হাতেখড়ি। ১৯৯৩-৯৭ সাল পর্যন্ত ছায়ানটের শিক্ষক ছিলাম এবং বাংলাদেশ বেতারেও কাজ করেছি। নিক্কণ সঙ্গীত বিদ্যালয়ের সাথে ছোটবেলা থেকেই যুক্ত ছিলাম, ধরে রেখেছি। আমার কখনোই ওরকম উচ্চাভিলাষ ছিল না; তবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন শিল্পীদের সাথে অনুষ্ঠান করেছি। বাংলাদেশে ফোক ফেস্টিভ্যাল, কলকাতায় রবীন্দ্রসদন মঞ্চ, নজরুল মঞ্চ করেছি।

 

সাতানব্বই এর পরে যখন ঠাকুরগাঁও বেতার পূর্ণ চালু হয়, তখন শিল্পী বলতে মাত্র চার-পাঁচজন ছিল। সেখানকার আর.ডি. আমাকে বললেন ঠাকুরগাঁওয়ে যোগদান করতে; আমারও কেন জানি মনে হল, বাড়ি চলে যাই। সেই টানে ঠাকুরগাঁও চলে আসি, এখনও আছি। এখানে এসে ঘরকুনো হিসেবেই থাকতাম বললে চলে। একসময় ধীরে ধীরে বাড়িতে ছাত্রছাত্রীরা গান-বাজনা শিখতে আসা শুরু করল। আমার ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি নয়টি। এর মধ্যে আটটি প্রেসিডেন্সি, একটি নতুন কুড়ি পুরস্কার।

 

আসলে সংস্কৃতি তো বহুরকম; ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অবস্থা কখনোই খারাপ ছিল না। তবে নিজ জায়গা থেকে বলছি, খুব ভালো যে তাও না। প্রায় কুড়ি বছর আগে দেখতাম ঠাকুরগাঁওয়ে বৈশাখি মেলা উদ্বোধন হতো সকাল দশটায়; সেখানকার বেশিরভাগ দর্শক হিসেবে থাকত ফেরিওয়ালারা, বড়জোর শেষের দিকে মেলাটা খানিকটা জমতো। ছায়ানটে থাকতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে দেখতাম হাজার হাজার মানুষ ভোরবেলা আসতো। আমারও খুব ইচ্ছে ছিল ঠাকুরগাঁওয়ে এরকম জমজমাট কিছু করার। তখন নববর্ষে নিক্কণের অনুষ্ঠানটি হতো মহিলা সমিতির ওখানে টগর প্রাঙ্গণে। মাঝখানে বেশ কিছুদিন অনুষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। ১৪০৬ বঙ্গাব্দে নিক্কণের রজতজয়ন্তীতে পহেলা বৈশাখে আমরা বটতলায় অনুষ্ঠানটি আবার শুরু করলাম। এর আগে ঠাকুরগাঁওকে গান-বাজনায় কেউ তেমন একটা গোনায় ধরত না, তবে এবার(২০১৮) আমার ছাত্রছাত্রীরা বিভাগীয় পর্যায়ে সঙ্গীতে নয়টি বিষয়ে প্রায় সবগুলোতেই পুরস্কার এনেছে; আর জাতীয় পর্যায়ে তো গিয়েছেই। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, পাবনা থেকে বড় বড় শিল্পীরা এসে আমাদের অনুষ্ঠান দেখেছেন। তারা বলেছেন, এই অনুষ্ঠান দেখে তাদের ঠাকুরগাঁও এর সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণাই বদলে গেছে।

 

তবে ঠাকুরগাঁও এর গান বাজনার বিকাশে ইদানীং সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে কোচিং-বাণিজ্য। হয়তোবা কেউ ধরতে পারছে না, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ঠাকুরগাঁও এর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি ভয়ংকর পরিস্থিতি আসতে যাচ্ছে। আমরা মনে হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি ধরে রাখতে পারব না। বাচ্চাগুলো এই কোচিং প্রাইভেটের চাপে অনুষ্ঠানের রিহার্সেল করারই সময় পায় না, গান শেখা তো দূরের কথা। সেদিন শিল্পকলায় গিয়ে দেখি, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র চারজন। অথচ মানুষজন কি গান শেখে না? অবশ্যই শেখে। ছায়ানটে থাকাকালীন দেখেছি, হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা গান শিখছে, নাচ শিখছে, নাটক শিখছে। অথচ তারা লেখাপড়াতেও সমান পারদর্শী। এমন কি রংপুরে পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী সেতার, হারমোনিয়াম শিখে; এটি হয়তো এখন বিভাগীয় শহর, কিন্তু একসময় তো মফস্বলই ছিল। তাহলে তারা পারলে আমরা ঠাকুরগাঁও কেন পারব না?"


"I was associated with music traditionally by birth. Ashish Kumar Rai Babu was my first mentor. I was introduced to classical music and Tabla by him. I was a instructor of Chhayanaut during '93-97 and I also worked at Bangladesh Betar by that time. I have been involved with Nikon Music School since I was a kid. I have never had such ambitions; However, I have performed with several artists at home and abroad. I had chance to perform at Bangladesh Folk Festival, Rabindra Sadan Manchya in Kolkata, Nazrul Manchya as well.

 

When the Thakurgaon Betar was fully operational after '97, there were only few artists. The R.D. asked me to join there; I thought about going home too. That's when I came back to Thakurgaon and staying here permanently since then. I used to lead a domesticated life during that moment. Gradually students began to come to learn music. My students received nine national awards. Of these, eight are presidency, and the rest one is from Notun Kuri.

 

In fact, culture is a very diverse thing; The condition of cultural premises of Thakurgaon has never been bad. However, I am telling it from my own experience, it is not so good too. About twenty years ago, I used to see the Baishakhi Mela commenced at ten in the morning; Most of the visitors were hawkers, I am sorry to say. The fair barely seemed a bit crowded at the end. During Chhayanaut days, I saw thousands of people would come early in the morning to attend the Pohela Baishakh ceremony. I too wanted to do something like this in Thakurgaon. At that period the Bengali new year celebration of Nikkan would held at the Togar premises of the Mahila Samity. The event was closed for several years afterwards. We resumed the ceremony at Battala on the first day of Baisakha at Rajat Jayanti (silver jubilee) of Nikkan in the year of Bangla 1406. Earlier, no one used to count Thakurgaon in the area of music, but this time in 2018, my students won prizes in almost all the nine musical categories at the divisional level; And went to the national level too. Great artists from Dhaka, Khulna, Rajshahi, Pabna came and watched our program. They said that their views about the cultural sector of Thakurgaon had changed after seeing the program.

 

However, the coaching trade here in Thakurgaon has become the biggest obstacle to the development of music of late. Maybe nobody is alarmed yet, but I think a terrible situation is going to come up in the cultural arena of Thakurgaon. I think we will not be able to keep up with the Borshoboron event. Children cannot manage time to rehearse for the programs under the pressure of coaching and private tuition, learning music is so far away. One day recently, I went to Shilpakola Academy and found that there are only four students of third year. So you think people do not learn music? They do. While I was with Chhayanaut, I saw thousands of children learning music, dance and plays. Yet they are equally skilled in academic studies. Even you can find many students from Rangpur who learn Setar and Harmonium; It may have been a divisional town now, but it was once a suburb. So, if they can, why can't we (Thakurgaon)?"


168 September 05, 2019

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Go back to Stories