Humans of Thakurgaon > Stories > Rana Sir


"আমি খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির হবার পরপরই। [খেলোয়াড় জীবনে মূলত ক্রিকেট খেলার সাথেই যুক্ত ছিলাম।] বিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের হয়ে পর্যায়ক্রমে আন্তস্কুল এবং বিভাগীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টগুলোয় অংশ নেই। উল্লেখ্য যে, সে সময় দলের অধিনায়কের দায়িত্বও আমি পালন করি। নবম-দশম শ্রেনিতে পড়বার সময়ে আমার ঠাকুরগাঁও যুব দলের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমি ঠাকুরগাঁও জেলা দলের হয়ে খেলার এবং পরবর্তিতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবার সুযোগ পাই। তৎকালীন ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ পর্যায়ে আমি একাধিকবার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছি।

বিদ্যালয় পর্যায় থেকে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য লাভের পর আমি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রফেশনাল লিগ সমূহে [ঠাকুরগাঁওএর প্রতিনিধি হিশেবে] অংশগ্রহণ করি। রাজশাহী অঞ্চলে এরকম একটা লিগে খেলাকালীন আমার ছোট ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। এরপর থেকে আমার আর খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা হয়নি।

আমার খেলোয়াড় জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও প্রতিভাটাকে কাজে লাগানোর প্রবল ইচ্ছে আর খেলাধুলার প্রতি ভালবাসাটুকু ছিল। সে ইচ্ছা থেকে ১৯৯৮ সালে বিপিএড করে ১৯৯৯ সাল থেকে ক্রীড়া শিক্ষকতার সাথে জরিয়ে পড়ি। প্রথমে পঞ্চগড় জেলার একটি মাদ্রাসায় এবং ২০১০ সালে ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে 'সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়' এ যোগদান করি। সে সময়টায় কেবলমাত্র ছেলেরাই খেলাধুলা করতো। আমি মেয়েদের প্রবল আগ্রহ দেখে তাদের নিয়েও প্র্যাকটিস শুরু করি। আমি প্রচলিত খেলা যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, হ্যান্ডবল ইত্যাদির পাশাপাশি হকি এবং বাস্কেটবলের মত অপ্রচলিত খেলাগুলোতেও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে থাকি। সেসময় আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও অন্যান্য ক্রীড়া সংগঠনের কাছ থেকে উৎসাহিত হয়ে এবং মেয়েদের আগ্রহ ও পরিশ্রমে আমরা সাফল্য অর্জন করতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায়, পর পর তিনবার রংপুর বিভাগীয় খেলাধুলায় আমরা শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হই।

২০১৭ সালে আমাদের মেয়েরা জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা হকি টুর্নামেন্টে রানার্স আপ হয়। এই বছর, ২০১৮ সালে মেয়েরা বাংলাদেশ যুব গেমসে বাস্কেটবলে রানার্স আপ হয়। একই বছর বরিশালে অনুষ্ঠিত ৪৭তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দলীয় খেলাগুলোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সে আমাদের খেলোয়াড়েরা প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, বাস্কেটবল অনুর্ধ্ব ১৮ জাতীয় দলে আমাদের চারজন মেয়ে এবং হকি অনুর্ধ্ব ১৮ দলে সাতজন মেয়ে সুযোগ পেয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই অর্জনটুকু একটি বিশাল পাওয়া। কোনো খেলার ফলাফলে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যখন ঠাকুরগাঁও এর নামটা শুনি, সে অনুভূতি কথায় প্রকাশ করার মতো নয়। আজ আমার মেয়েরা জাতীয় দলে খেলছে। আমরা অপেক্ষা করছি সেই দিনের, যখন তারা বিদেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলবে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসবে। আমার খেলাধুলার আগ্রহ-ইচ্ছা এই খেলোয়াড়দের দ্বারাই প্রকাশিত হয়ে বজায় থেকেছে। এটাই আমার স্বার্থকতা। এখন একটাই স্বপ্ন দেখি যে, আমাদের খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য অর্জন করবে এবং দেশের গৌরব হয়ে গড়ে উঠবে।"


"After being admitted to Thakurgaon Government Boys' High School, I was involved with sports soon after. [I was associated with playing cricket primarily in my sport life.] I took part in the inter school and departmental tournaments on behalf of the school cricket team. Note that, at that time I also hold the responsibility of captain of the team. I was fortunate to play in the national level from Thakurgaon Youth Team while I was studying in the ninth grade. In continuation of this, I got the opportunity to play for the district team of and to follow the leadership as a captain. In the Thakurgaon District League I was selected as the best player several times.

After these continuous success from the school stage, I started participating in the professional leagues [as a representative of Thakurgaon] nationwide. My younger brother died in a road accidents while playing in such a league in Rajshahi region. Since then, I have not been fielded as a player.

Though my player's life was ended, I had a strong desire to use my talent and love for sports. From this will of mine, I completed BPED in 1998 and from 1999 I got involved with the discipline of sports teaching. Initially, I joined in a madrasa of Panchagarh district and in 2010, I joined Salandar High School for doing something good. At that time only boys used to play. I started to realise girls' intense interest in sports and started practicing with them. I used to involve myt students with traditional sports such as football, cricket, kabaddi, handball etc. as well as in semi-non-existent sports like hockey and basketball. At that time we have to face many obstacles. However, we got helped from the district sports organizations and other sports organizations through the hard work of my girls. Holding this continuation, we were selected the best school for sports category three times in the Rangpur division.

In 2017 our girls got the runners up trophy in the National School and Madrasa Hockey Tournament. This year, they got the runners up trophy in Basketball at Bangladesh Youth Games. In the same year, in 47th National School and Madrasa Winter Sports Competition held in Barisal, our girls achieved the pride of becoming champion in the. Local as well as at the national level, our players have been able to keep their talent signature.

You will be delighted to know that, four of our girls have been selected in the basketball under-18 team and 7 of them in the Hockey Under-18 team. It is a great achievement to have these through many adversities. When Thakurgaon's name is heard as a champion of any sporting event, the feeling cannot be revealed with expressing words. Today my girls are playing in the national team. We are waiting for the day when they will play internationally and bring honor to the country. My interest in sports has been sustained by these players. That's my success. Now the only dream I comprehend is that our players will achieve success in the international arena and the country will become proud."


397 June 06, 2018

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    Rifat commented July 16, 2018 02:38:27 AM
    fantastic write up. :)
    Rifat
    fantastic write up. :)
    July 16, 2018 02:38:27 AM

Prev Next
Go back to Stories